‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত ফিরে আসতে পারে’

0
129

ঢাকা: প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বুদ্ধিসুলভ লাগাতার বিবাদের মধ্যেই আগামী বছরে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে আবারো গভীর উত্তেজনা-সংঘাত ফিরে আসতে পারে। যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সের বাংলাদেশ বিষয়ক এক ব্রিফিং পেপারে এমন মন্তব্য করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশের শীর্ষ এই রাজনৈতিক দল দুটির পারিবারিক বৈরী সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘকাল থেকেই চলে আসছে- যা আজও বিদ্যমান। এতে বলা হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন ছিল ব্যাপকভাবে ত্রুটিপূর্ণ ও অগ্রহণযোগ্য। এই নির্বাচন নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিএনপি তাতে অংশ গ্রহণ করেনি। দলটি নির্বাচন পরবর্তীতে বছর ধরে হরতাল-অবরোধের ডাক দেয়। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন দলের প্রস্তাব সম্পর্কে বলা হয়, আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকেই সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রী পরিষদের কথা বলে আসছে এবং আগামী নির্বাচন একইভাবে অনুষ্ঠান করতে চায়। এই প্রস্তাব বিএনপি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়, সমঝোতা না হলে বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা দলটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এক্ষেত্রে তারা তাদের সমর্থক গোষ্ঠী ও ভোটারের মধ্যে কতটা বিশ্বাসযোগ্য আস্থা ধরে রাখতে পারবে তা নিয়েও ভাবছে। তবে বিএনপি ২০১৪ সালের মতো যদি নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রকট হয়ে দাঁড়াবে বলে বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারের সমালোচকরা স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে লাগাতার উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দাবি করছে যে আওয়ামী লীগ সরকার ক্রমবর্ধমানভাবে স্বৈরাচারী হয়ে উঠছে। হিউম্যান রাইট ওয়াচ বলছে সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যম এবং সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এমনকি সরকারি পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের অবাধ গ্রেপ্তার, অপহরণ, গুম-খুন এবং বিচার বহির্ভুত হত্যার প্রবল অভিযোগ রয়েছে।

যুদ্ধ্যপরাধ আদালত সম্পর্কে বলা হয়, এই আদালতের বিরুধ্যে অভিযোগ রয়েছে যে ৬ জন বিরোধী নেতাকে রাজনৈতিক ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্প্রতি দ্বন্দ্বের বিষয়ও আলোচনা করা হয়। এতে বলা হয় সরকারের সাথে বিচার বিভাগের দ্বিমতের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবেলা করছেন।