আওয়ামী লীগের সিদ্দিক-মোমেনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ, জাতিসংঘের সামনে হিন্দুদের বিক্ষোভ!

0
464

hindu  un 9জন্মভূমি প্রতিবেদক: নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশী হিন্দু সম্প্রদায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ এ অংশ নেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশে হত্যা গুম প্রতিদিনের ঘটনা। গত জানুয়ারি থেকে এই জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সম্প্রদায় এর যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমান ইমান, বুদ্ধিজীবি, ব্লগার, সাংবাদিক সহ খুন ও ঘুম হয়েছে প্রায় ৪৯ জন।

এরই প্রতিবাদে প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায় ও সুশীল সমাজ জাতিসংঘের সামনে এক বিক্ষোভের আয়োজন করে। যারা বিক্ষোভের আয়োজন করে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্ট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, গণ জাগরণ মঞ্চ, সম্প্রীতি মঞ্চ, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র সৎসঙ্গ। প্রজন্ম ৭১, পজেটিভ জেনারেশন সোসাইটি সহ অন্যান্য সংগঠন। যদিও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের মিথুন আহমেদ ছাড়া কেউ আসেনি। এই বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঢাকার সরকার নড়ে চড়ে বসে। টনক নড়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা ও কূটনৈতিকের। তারা বিভিন্ন ভাবে কুটনৈতিক চাল ও রাজনৈতিক ধমক দিয়ে এই বিক্ষোভ কে বন্ধ করতে চেয়েছিলো, কিন্তু কাজ হয়নি।

তবে যে কাজটি তারা করতে পেরেছে তা হিন্দু ছাড়া প্রগতিশীল মুসলমান সম্প্রদায়, সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের কে বিক্ষোভ থেকে বিরত রাখতে পেরেছে।

জানা গেছে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে এম আব্দুল মোমেন প্রবাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা সাংবাদিকদের ফোন করে এই অনুষ্ঠান বাতিল করতে বলেছে। নিউজার্সিও ড. নূরান নবী ও প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ সহ আওয়ামী লীগের সংখ্যালুঘু নেতারা যায়নি। তবে আওয়ামী নেতা শিতাংশু বিকাশ গুহ ও নবেন্দু বিকাশ দত্ত বিক্ষোভে অংশ নেয় ও দায়িত্ব পালন করে। জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভে ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ড. মোমেনের বাঁধার পরও বিপুল সংখ্যক হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভকারী অংশ নেয়। সংখ্যালঘু বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, মুক্তচিন্তার মানুষ বাঁচাও শ্লোগান দিয়ে তারা প্রায় তিনি ঘন্টা বিক্ষোভ করে ও জাতিসংঘ বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

উক্ত বিক্ষোভে বক্তারা বর্তমানে বাংলাদেশের নৈরাজ্য, মানুষ হত্যায় সরকারী দল আওয়ামী লীগকেই দায়ী করে। তারা বলেন, শেখ হাসিনার প্রশ্রয়েই আওয়ামী লীগের মাঝে একটি অংশ হোলি খেলায় নেমেছে। তারা হিন্দু পুরোহিতদের হত্যা করেছে, হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করেছে, হিন্দু রমনীদের ধর্ষণ করেছে। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হত্যা, গুম, ধর্ষণ এসবের সাথে জামাত-শিবির ও বিএনপি নেই বরং সরকারী দল আওয়ামী লীগই দায়ী।

বিক্ষোভ এলাকার একজন পার্বত্য যুবনেতা বলেন, শেখ হাসিনা পার্বত্য চুক্তির কোনকিছু মানেননি, বরং সেই চুক্তিকে লংঘন করে পাহাড়ে দমননীতি চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ স্থানীয় সাংসদের নিয়ে সম্পদ দখল, ধর্ষণ ও জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক’জন নেতা এই বিক্ষোভে বলেন, শেখ হাসিনার বিয়াই কর্তৃক ফরিদপুরে হিন্দু সম্পত্তি দখল নতুন ঘটনা নয় তারা নিন্দা জানায়। বিয়াই কিভাবে এখনো মন্ত্রী পদে বহাল তবিয়তে আছেন?

বিক্ষোভে আমেরিকান ও ভারতীয় ক’জন হিন্দু উপস্থিত ছিলো। তাদের বক্তব্যে বাংলাদেশের জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করে। বিক্ষোভে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে শিতাংশু বিকাশ গুহ, নবেন্দু বিকাশ দত্ত, সুশীল সাহা, শুভ রায়, দিবাকর রায়, আরিস সোহানী, কৃষ্ণ চাকমা, ভিনসেন ব্রুন, সুভাষ পাল, রবীন্দ্র সরকার ও পবিত্র চৌধুরী প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here