আইএসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিলারি: ট্রাম্প

0
117

225921167078_kalerkantho_picআন্তর্জাতিক ডেস্ক: এবার আগের চেয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিকে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বলে উল্লেখ করেছেন। এর দুই দিন আগেই হিলারি ক্লিন্টনকে তিনি ‘শয়তান’ বলেছিলেন।

গত বুধবার ফ্লোরিডার ডেটোনা বিচের এক সভায় ফের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারিকে আক্রমণের নিশানা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আইএসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে হিলারির ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়া উচিত।’

লিবিয়া থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সঙ্কটের জন্য তিনি সরাসরি দায়ী করেন হিলারিকে। ট্রাম্পের যুক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম দফায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ওই সময়ে দায়িত্বে ছিলেন হিলারিই। আর তার মতে, ওই সব এলাকায় সঙ্কটের হাত ধরেই তো আইএসের গোড়াপত্তন।

এর সঙ্গেই সভায় পর পর উদাহরণ দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে যান, ‘অরল্যান্ডোর কথা ভাবুন। সান বার্নার্দিনোর কথা ভাবুন। একটু পিছিয়ে গিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কথা ভাবুন। সারা বিশ্বজুড়ে কী ঘটছে ভাবুন, আমরাই আইএসকে এই জায়গায় পৌঁছতে দিয়েছি।’

ট্রাম্প বলেন, সেই সময় তিনি প্রেসিডেন্ট থাকলে ৯/১১ আটকানো যেত। তার কথায়, ‘যারা ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস করেছিল, ট্রাম্পের নীতির জেরে তারা এখানে ধ্বংসলীলা চালানোর জন্য ঢুকতেই পারত না।’

শুধু ‘শয়তান’ নয়, কয়েক মাস ধরে হিলারিকে ‘কুটিল’ বলেও চলেছেন ট্রাম্প। এ দিন আবারো সেই সম্বোধন করে তার মন্তব্য, ‘কুটিল হিলারি ক্লিন্টনের কাছে হেরে যাওয়াটা কি যথেষ্ট লজ্জাজনক নয়? সেটা ভয়ঙ্কর হবে।’

ট্রাম্প যখন হিলারিকে এভাবে আক্রমণ করছেন, তখন তার নাম জড়িয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে অন্য একটি বিষয়ে। আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্পের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যের অন্যতম ‘ট্রাম্প তাজমহল ক্যাসিনো’ কর্মীদের ধর্মঘটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যার জেরে কাজ হারাবেন অন্তত তিন হাজার মানুষ। গোটা আটলান্টিক সিটিতে তাজমহল ক্যাসিনোতেই সবচেয়ে কম বেতন দেওয়া হতো।

যদিও এই রিপাবলিকান প্রার্থী ওই ক্যাসিনোর সঙ্গে এখন আর জড়িত নন। কিন্তু তার নামটি ওই ক্যাসিনোর সঙ্গে প্রায় সমার্থক। ২০১৪ সালেই এই আটলান্টিক সিটিতে আরও চারটি ক্যাসিনো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন আট হাজার মানুষ।

একটি মার্কিন পত্রিকার দাবি, এখন ট্রাম্প ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে হাত ধুয়ে ফেললেও এই ব্যবসায় কর্মী বিক্ষোভের শুরু ট্রাম্পের জমানাতেই। একের পর এক ক্যাসিনো নিয়ে দেউলিয়া হতে হয়েছিল ট্রাম্পকে। গত মাসে নিউ জার্সিতে হিলারি এই নিয়েই সরব হয়েছিলেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তিনি বলেছিলেন, ‘ট্র্রাম্পের অর্থনীতির রসায়ন স্বল্প বেতন, অল্প কাজ আর বেশি ঋণ নিয়ে তৈরি। যেভাবে উনি নিজের সংস্থাগুলো দেউলিয়া করেছেন, গোটা আমেরিকাকেও এক দিন দেউলিয়া করবেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here