অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের স্টোরেজ ফাঁকা করার পদ্ধতি

0
129

প্রযুক্তিবাজারে বর্তমানে ৩২,৬৪ এবং এমনকি ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত অনবোর্ড স্টোরেজ সুবিধাযুক্ত স্মার্টফোন পাওয়া গেলেও সবার ক্ষমতার মধ্যে সেসকল স্মার্টফোনগুলো না থাকায় এখনো আমাদের দেশের বেশীরভাগ ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করে থাকেন ১৬,৮ এবং ৪গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ সমৃদ্ধ স্মার্টফোনগুলো। এবং বলা চলে ৩২ গিগাবাইটে অনবোর্ড স্টোরেজের নিচে যে সকল স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করে থাকেন তাদের প্রত্যেকেরই স্টোরেজ সংক্রান্ত জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। যদিও স্টোরেজ ব্যবহার করার জন্যেই এবং দীর্ঘসময় ধরে ব্যবহারে স্টোরেজ ধীরে ধীরে পূর্ণই হয়ে যাবে কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডের ইন্টারনাল স্টোরেজ বেশি ভরে গেলে অপারেটিং সিস্টেম কিছুটা হলেও ধীর গতিতে কাজ করে থাকে। তাই এই স্টোরেজ সমস্যা সমাধানে আজ এই টিউটোরিয়ালটি লিখতে বসা। আশা করি এই টিউটোরিয়ালটি আপনাদের আপনাদের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন থেকে কিছুটা হলেও স্টোরেজ ফাঁকা করতে সাহায্য করবে। কথা না বাড়িয়ে চলুন এবার মূল টপিকে চলে যাওয়া যাক।

 

 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশনগুলো আনইন্সটল করে ফেলুন 

আমরা আমাদের স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরণের অ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে থাকি। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা কিছু অ্যাপলিকেশন নামিয়ে প্রয়োজন শেষ হলেও সেটা আর আনইন্সটল করিনা, ফলে অ্যাপলিকেশনটি আমাদের স্মার্টফোনেই থেকে যায়। আর এভাবেই সেই অ্যাপলিকেশনটি কিন্তু আপনার স্মার্টফোনের কিছু স্টোরেজ এবং কিছু র‍্যাম রিসোর্স দখল করে রেখে দেয়। এভাবে নিত্যদিন ব্যবহারে স্মার্টফোনে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশনের সংখ্যা বাড়তেই থাকে এবং কিছুটা করে হলেও আমাদের স্মার্টফোনের স্টোরেজ কমতে থাকে। তাই আপনার স্মার্টফোনে যদি স্টোরেজ সমস্যা থেকে থাকে তবে এখনই অপ্রয়োজনীয় অ্যাপলিকেশনগুলো মুছে ফেলুন। দেখবেন আপনার স্মার্টফোনে শুধুমাত্র কিছুটা স্টোরেজেই ফাঁকা হয়নি বরং বেশ কিছুটা র‍্যাম রিসোর্স ফাঁকা হওয়ায় স্মার্টফোনটি পূর্বের চাইতেও স্মুথ অপারেট হচ্ছে।

অনেক স্মার্টফোনেই কিছু ব্লটওয়্যার দেখা যায় যেগুলো সিস্টেম অ্যাপ হিসেবে পূর্বে থেকেই যোগ করা থাকলেও আমাদের কখনো কাজে আসেনা। সেই অ্যাপগুলো আনইন্সটল করার জন্য প্রথমে স্মার্টফোনকে রুট করতে হয় এরপর প্লে-স্টোর থেকে খুঁজে বেশ কিছু সিস্টেম রিমোভার অ্যাপলিকেশনের মধ্যে থেকে একটি ইন্সটল করেও সেগুলো মুছে ফেলা সম্ভব।

 

 

বড় গেমগুলো মুছে ফেলুন 

অ্যাসফল্ট ৮, মডার্ণ কমব্যাট, ডেডট্রিগ্যার ধরণের গেমগুলোর এপিকে আকারে কম হলেও এর টোটাল গেম ডাটা ৫০০ মেগাবাইট থেকে ২গিগাবাইট পর্যন্ত। প্লে-স্টোরে এমনও গেম আছে যেগুলোর টোটাল আকার ৩-৪ গিগাবাইট। আপনার স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ যদি ১৬ গিগাবাইটও হয়ে থাকে তবে এধরণের দুটি গেমই আপনার স্মার্টফোনের বেশীরভাগ জায়গা দখল করে নেয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই খেলতেই যদি হয় তাহলে ছোট ছোট গেমই না হয় খেললেন।

 

 

ইমেজ এবং ভিডিও মুছে ফেলুন অথবা ট্র্যান্সফার করুন 

আপনি খেয়াল করেছেন কিনা জানিনা তবে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বা ভিডিওগুলো কিন্তু ডিফল্টভাবে সংরক্ষণ হয়ে থাকে ডিভাইসের ফোন মেমোরিতে। আর এভাবেই দীর্ঘ সময় ব্যবহারে এই ইমেজ বা ভিডিও ফাইলগুলো জমেই ইন্টারনাল স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যায়। তাই স্টোরেজ ফাঁকা করতে চাইলে আপনি অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো মুছে ফেলতে পারেন বা ফাইলগুলো মেমরি কার্ডে ট্র্যান্সফার করতে পারেন (যদি থেকে থাকে মাইক্রোএসডি কার্ড স্লট) অথবা পিসিতে ট্র্যান্সফার করতে পারেন।

 

 

ক্লাউড মিউজিক সার্ভিস 

যদি আপনার স্মার্টফোনে বাড়তি মেমরি কার্ড ব্যবহার করার সুবিধা না থেকে থাকে তবে মিউজিকের জন্য কিন্তু আপনি খুব সহজেই আপনার স্মার্টফোনের স্টোরেজ ব্যবহার না করেই বিভিন্ন ধরণের ক্লাউড মিউজিক সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে আপনি মিউজিকের আনন্দও পাবেন, সাথে আপনার স্মার্টফোনের মেমরিও ফাঁকা থাকবে।

 

 

অ্যাপ ডাটা ক্লিয়ার করুন 

অনেকদিন স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে আমাদের ব্যবহারিত অ্যাপগুলোতে অনেক বেশি অ্যাপডাটা জমে যায়। এই অ্যাপ ডাটাগুলোও কিন্তু আমাদের স্মার্টফোনের বেশ স্থান দখল করে নেয়। তাই বেশ কিছুদিন পর পর আপনি বিভিন্ন অ্যাপলিকেশনের যেগুলো আপনি বেশি ব্যবহার করে থাকেন, সেগুলোর অ্যাপ ডাটা ক্লিয়ার করেও আপনার ডিভাইসের অনেকটা স্টোরেজ ফাঁকা করতে সক্ষম হবেন।

 

 

আশা করি, এই সহজ কিন্তু কার্যকরী পদ্ধতিগুলো আপনাদের স্মার্টফোন থেকে কিছুটা হলেও স্টোরেজ ফাঁকা করে আপনাদের সাহায্য করবে।