“অস্হির পাহাড়া দিশেহারা মানুষ” সাবেক সেনা সার্জেন্ট মুকুল চাকমার খোঁজ নেই

0
153

135283_112ঢাকা ডেস্ক: তিনি একজন সাবেক সেনা সার্জেন্ট। নাম মুকুল কান্তি চাকমা। অপহৃত হয়েছেন গত ৩০ মে। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ঘটনার এক মাস চার দিন পরে মুকুল কান্তির পরিবার একটি মামলা দায়েরে সক্ষম হয়েছেন। এর আগে ২০ মে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করেছিল থানা। সেখানে জনসংসহতি সমিতির (জেএসএস) উপজেলা সভাপতিসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ তাদের কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। এ দিকে মুকুল কান্তির পরিবার এখন ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়া তো দূরের কথা, পুলিশের ওসি আসামিদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘ওরা সম্রাট, ওদের সাথে টিকে থাকা যাবে না’। মুকুল কান্তির পরিবার এখন ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

মুকুল কান্তির বাড়ি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির মারিস্যায়। সাবেক সেনা সার্জেন্ট হওয়ার কারণে স্থানীয় জেএসএসের অভিযোগ ছিল, ‘তিনি সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেন। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন।’ মুকুল কান্তির মেয়ে নমিসা চাকমা বলেন, ‘জেএসএসের লোকজন বাবাকে সন্দেহ করত। তারা ভাবত তাদের অপকর্মের সব তথ্য বাবা সেনাবাহিনীকে দিয়ে দেয়।’ আর এ কারণেই গত ৬ মে বাড়ির কাছেই মুকুল কান্তিকে মারধর করেন স্থানীয় জেএসএস নেতা বিস্তার চাকমা। এই ঘটনার পর মুকুল বাড়ি ছেড়ে খাগড়াছড়ি গিয়ে থাকতেন। মুকুল কান্তির স্ত্রী সাধনা চাকমা বলেন, গত ৩০ মে বিকেলে মোবাইলে ফোন করে তার স্বামীকে ডেকে নেয় প্রভাদ কুমার চাকমা ওরফে কাকলি বাবু। সে জেএসএস উপজেলা কমিটির সভাপতি বলে জানান সাধনা। তিনি বলেন, ৬ মে যে মারধর করা হয়েছিল তার একটি মিট-মীমাংসার কথা বলে তার স্বামীকে ডাকা হয়। তাকে ডেকে উগছড়ির লাইল্যেঘোনার বক্কা চাকমার দোকানে নেয়া হয়।

সেখান থেকে মুকুল একবার তার স্ত্রীকে ফোন করে বলেন, সেখানে প্রভাদ চাকমা, আবিষ্কার চাকমা, ত্রিদিব চাকমা এবং বিস্তার চাকমা আছে। তাদের সাথে তিনি কথা বলছেন। ৩০ মে রাত সাড়ে ৮টায় এই কথা হয়। ফিরতে দেরি হওয়ায় সাধনা রাত ৯টায় আবারো তার স্বামীকে ফোন দেন; কিন্তু এবার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতে আরো কয়েকবার ফোন দিয়েছেন; কিন্তু মোবাইল বন্ধ। সেই থেকেই নিখোঁজ মুকুল। তিন-চার দিন পরে একবার ফোনটি খোলা পাওয়া গিয়েছিল, কেউ ফোন ধরেনি। তারপর থেকে আর কোনো সংযোগ মেলেনি। এ দিকে ঘটনার পর বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করতে থাকে। নমিসা চাকমা বলেন, ওসি সরাসরি বলে দেন ‘ওরা হলো সম্রাট। ওদের সাথে পারবা না। ওদের সাথে ঝামেলা করো না। মামলা করো না। মামলা করার যখন সময় হবে তখন বলব।’ থানায় গেলে এই বলে প্রতিবারই বিদায় করে দেয়া হয় সাধনা চাকমা এবং তার মেয়েকে। শেষ পর্যন্ত এই পরিবার ২০ মে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে সক্ষম হন। এরপরও তারা অসংখ্যবার মামলা করতে গেলে পুলিশ তাদের নানা কথা বলে বিদায় করে দেয়। সাধারণ ডায়েরি করার পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যকেও হুমকি দেয়া হয়। চার-পাঁচজন মুখোশধারী লোক তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেন। নাসিরাবাদ মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী নমিসা চাকমা গত ২৩ জুন বলেন, তার মা এবং তারা দুই বোন এখন আর বাড়িতে যেতে পারছেন না। তাদের কোনোই নিরাপত্তা নেই।

এ দিকে গত ৩ জুুলাই বিকেলেও সার্জেন্ট মুকুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়Ñ এই ঘটনায় পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে ৪ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টায় রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই পরিবারের এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি। বেলা ১টায় থানার ওসি আবুল কালাম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আজ সকালে মামলা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণে এত দেরি কেন এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here