অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৫ রানের লক্ষ্য দিল টাইগাররা

0
77

স্পোর্টস ডেস্ক: সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের জোড়া ফিফটিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৬০ রান। জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া করতে সক্ষম হয় ২১৭ রান। ৪৩ রান এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকরা অলআউট হয় ২২১ রানে। সব মিলে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৫ রানের লক্ষ্য দিল মুশফিকুর রহীমের দল।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ২৬০ রানের জবাবে ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৪৩ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ মঙ্গলবার টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ সেশনের শুরুতেই ২২১ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২৬৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৮ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। এছাড়া মুশফিক ৪১, মেহেদী হাসান মিরাজ ২৬ এবং সাব্বির রহমান করেন ২২ রান।

অস্ট্রেলিয়ার সফলতম বোলার নাথান লায়ন। ৮২ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া অ্যাস্টন অ্যাগার দুটি ও প্যাট কামিন্স নেন একটি উইকেট।

মঙ্গলবার ১ উইকেটে ৪৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দিনের এক ঘণ্টা না পেরুতেই তাইজুল-ইমরুলকে হারিয়ে সেই চাপে পড়ে। সকালে সাবধানী শুরুর পর দলীয় ৬১ রানের মাথায় নাথান লায়নের বলে তাইজুল লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে হোঁচট খায় বাংলাদেশ। কিছুক্ষণ পর দলীয় ৬৭ রানের মাথায় ডেভিড ওয়ার্নারকে ক্যাচ দিয়ে তাইজুলকে অনুসরণ করেন ইমরুল।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে ওঠে বাংলাদেশ; যাতে নেতৃত্ব দেন তামিম ও মুশফিক। ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি (৭১) করা পর দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরির স্বপ্ন জাগিয়েও ফিরে যান ৭৮ রান করে।

চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ইকবাল আউট হওয়ার পর ক্রিজে মুশফিকুর রহীমের সঙ্গে যোগ দেন সাকিব। লায়নের করা ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে মিড অফ দিয়ে দারুণ এক চার হাঁকান সাকিব। একই ওভারের পঞ্চম বলে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলতে গিয়ে মিড অফে প্যাট কামিন্সকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। সাকিবের বিদায়ের পর মুশফিক ও সাব্বিরের জুটিতে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে হঠাৎ তালগোল পাকিয়ে ফেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় পরপর মুশফিক, নাসির ও সাব্বিরের বিদায়ে ব্যাকফুটে চলে যায় টাইগাররা। নাথান লায়নের করা ৬৮তম ওভারের পঞ্চম বল সাব্বির রহমান বোলার বরাবর শট খেলেন। লায়ন বলে আলতো ছোঁয়া লাগান। মুশফিক কাছেই ছিলেন; ক্রিজ থেকে সামান্য বাইরে। কিন্তু কী ঘটতে যাচ্ছে সেটি বুঝতে বিলম্ব করে ফেলেন তিনি। যখন বুঝলেন তখন আমার ক্রিজে ফেরা সম্ভব হয়নি।

মুশফিকের পরপরই বিদায় নেন নাসির। অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে উইকেটের পেছনে নাসির হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। লায়নের করা পরের ওভারে পিটার হ্যান্ডসকম্বকে ক্যাচ দিয়ে নাসিরকে অনুসরণ করেন সাব্বির। বাংলাদেশের রান তখন ৮ উইকেটে ১৮৬।

নবম উইকেটে শফিউল ইসলামকে নিয়ে ২৮ রানের দারুণ জুটি গড়েন মিরাজ। কিন্তু চা বিরতির পরপরই শফিউল ও মিরাজকে আউট করে বাংলাদেশকে ২২১ রানে গুটিয়ে দেন লায়ন।

এর আগে সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং তোপে পড়ে সোমবার চা বিরতির পর ২১৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। অ্যাস্টন অ্যাগার-প্যাট কামিন্সের আগে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে যা একটু লড়েছেন ম্যাট রেনশ ও পিটার হ্যান্ডসকম্ব।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে রেনশ ৪৫ এবং হ্যান্ডসকম্ব করেন ৩৩ রান। গ্লেন কামিন্স ২৫ এবং ম্যাক্সওয়েল আউট হন ২৩ রান করে। ডেভিড ওয়ার্নার (৮) এবং উসমান খাজার (১) পর ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও (৮)। ওয়েড ফিরেছেন ৫ রান করে। অ্যাগার ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের হয়ে পাঁচটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ নেন তিনটি উইকেট। তাইজুল ইসলাম নেন একটি উইকেট।

এর আগে বাংলাদেশের ২৬০ রানের মাঝারি মানের সংগ্রহের কৃতিত্ব সাকিব ও তামিম ইকবালের। ১০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ১৫৫ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। আর তাতে করে লড়াই করার পুঁজি পায় টাইগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা সাকিব ৮৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস উপহার দেন। সমান ৫০তম টেস্ট খেলতে নামা তামিম করেন ৭১ রান। নাসির ২৩ এবং মুশফিক ও মিরাজ সমান ১৮ রানের ইনিংস খেলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here