অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কাজ প্রথম শুরু করেন বঙ্গবন্ধু

0
119

204432mujib_kalerkantho_picবাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের অন্যতম পুরনো, অসাম্প্রদায়িক, সর্ববৃহৎ ও বাঙালির জাতীয় মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দলের নেতৃত্ব দেন এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের গড়ার কাজ প্রথম শুরু করেন। আগামী ২৩ জুন এই দলটির ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দলটির অসাম্প্রদায়িক দিক সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে আজ একথা জানান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু দেশের পুরনো ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলই নয়, এটি গণতন্ত্র ও অসা¤প্রদায়িক ভাবাদর্শের মূলধারাও। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে শুরু করে গত ৬৭ বছর ধরে নানা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সমাজ-রাজনীতির এ ধারাকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে এগিয়ে নিচ্ছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকেই এই দলের নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসাবে গড়ে তোলার কাজ প্রথম শুরু করেন। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। পুরনো ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজগার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়। প্রতিষ্ঠাকালে নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।

সম্মেলনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক এবং পুরনো ঢাকার ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৬৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সমাজ-রাজনীতির প্রগতিশীল রূপান্তরে অবদান রেখে চলেছে। ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ শে অক্টোবর পুরনো ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ করা হয়।

কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু এ মর্মে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এর ফলে ধর্ম-নির্বিশেষে সবার জন্য দলের দ্বার উন্মোচিত হয়। সেই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে বলেন, আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে এ-কথা ঘোষণা করতে পারি যে, দেশের সকল ধর্মের সকল বর্ণের এবং সকল ভাষাভাষী মানুষকে একটি গণপ্রতিষ্ঠানে সমবেত করা প্রয়োজন।

বস্তুত, আওয়ামী লীগ দলকে সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য অবারিত করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের প্রগতিশীল ভূমিকাকে অক্ষুণœ রাখতে সক্ষম হব। পরে ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ ঘোষণা করা হলে এর তীব্র বিরোধিতা করে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান শাসনতান্ত্রিক পরিষদে তাঁর ভাষণে বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু মুসলমানদের জন্য সৃষ্টি হয়নি।’ ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি কোনো ধর্মীয়ভিত্তিক হবে না।

রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ‘যার যার ধর্ম তার তার’ ধর্মনিরপেক্ষতার এই ব্যাখ্যা বঙ্গবন্ধুই প্রথম উপস্থাপন করেন। ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর খসড়া সংবিধান প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু ভাষণে বলেছিলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্ম-কর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবও না। ২৫ বছর ধর্মের নামে জুয়াচুরি, শোষণ, বেইমানি, খুন, ব্যাভিচার এই বাংলাদেশের মাটিতে চলেছে। ধর্ম অতি পবিত্র জিনিস। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।

ইতিহাসবিদদের মতে সূচনা থেকেই আওয়ামী লীগ সমাজ-রাজনীতি-রাষ্ট্রিক বাস্তবতার আলোকে অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও বাস্তবধর্মী নীতিমালা অনুসরণ করে আসছে। আওয়ামী লীগ ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রথম বিরোধী দল। ঐ সময় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিরোধী দল গঠন করা ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। দ্বি-জাতিতত্ত্বের আবরণে দেশে ধর্মীয় উম্মাদনা বা উগ্রবাদ তখন পর্যন্ত ছিল প্রবল।