অসহিষ্ণুতা মুক্ত চিন্তার পরিবেশ বাধাগ্রস্থ করছে: রাষ্ট্রপতি

0
69

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠদান কেন্দ্র নয়, বরং তা জ্ঞান সৃষ্টি ও চর্চার এক অনন্য পাদপীঠ। মুক্তচিন্তা, সমকালীন ভাবনা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবতর অভিযাত্রাসহ সংস্কৃতি চর্চা, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের জানার পরিধিকে যেমন বিস্তৃত করে তেমনি তাদেরকে পরিণত করে বিশ্ব নাগরিকে।

বুধবার বিকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়েরর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার অন্যতম অনুসঙ্গ। এর অনুপস্থিতিতে আজ কূপমণ্ডুকতা, উগ্রবাদসহ নানামুখী অসহিষ্ণুতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মুক্ত চিন্তার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে। এ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মকে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে প্রস্তুত করতে এবং সকল স্তরে নেতৃত্বদানে সক্ষম ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, অভিভাবক, ছাত্রসংগঠনসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, শোষণমুক্ত একটি সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণই ছিলো আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার। বর্তমান সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তোমাদের িওপর। তোমাদের তারম্নণ্য, জ্ঞান, মেধা ও প্রজ্ঞা হবে দেশের উন্নয়নে প্রধান চালিকাশক্তি। দেশ ও জনগণের কাছে তোমাদের আছে ঋণ। একজন বিবেকবান নাগরিক হিসেবে সেই ঋণ তোমাদের পরিশোধ করা উচিত। আর একটা কথা বলি, কর্ম উপলক্ষে তোমরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো না কেন, এ দেশ ও এ দেশের জনগণের কথা ভুলবে না। ভুলবে না খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণের কথা।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান রাষ্ট্রপতিকে দ্বিতীয় মেয়াদের নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। তার জবাবে নিজের ভাষণে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক মান্নানের উদ্দেশে স্বভাবসুলভ রসিকতা করে তিনি সহাস্যে বলেন, উনি খুশি হতে পারেন। কিন্তু তোমরা যারা নবীন তোমরা হয়তো খুশি হবে না। তোমরা ভাবতে পারো বুড়ারা না মরা পর্যন্ত আমাদের রাস্তা ক্লিয়ার হচ্ছে না।

সমাবর্তন বক্তা নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার তার নিজের ক্ষেত্র প্রাণ-রসায়ন নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন। বাংলাদেশের বিরাট প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনশক্তি বিষয়েও কথা বলেন তিনি।

গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা এক নতুন জীবনে পদার্পণ করলেন, যেখানে পিতামাতা, সমাজ, দেশ এবং মানবতার প্রতি রয়েছে গুরু দায়িত্ব। একজন মানুষ হিসেবে এই দায়িত্ব পালনে আপনাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, উন্নত জাতি গঠনের অপরিহার্য শর্ত হলো দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ নাগরিক তৈরি এবং সচেতনতা বৃদ্ধিসহ জ্ঞান ও অন্তদৃষ্টির প্রসার ঘটানো।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন সমাবর্তনে আগত রাষ্ট্রপতি, সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. রবার্ট হিউবার, বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ সব অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য, আবদুল হাই, এস এম জগলুল হায়দার, শেখ আফিল উদ্দিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর রশীদ আসকারী, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলমগীর, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭০ জন গ্রাজুয়েট অংশ নেন। তাদের মধ্যে আটজন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক, পাঁচজন ভাইস চ্যান্সেলর পদক এবং ৫৬ জন ডিন্স অ্যাওয়ার্ড পান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে গ্রাজুয়েটদের সাথে মজা করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, আগের মত ফ্রি স্টাইলে চললে চলবে না। এখন অনেক দায়িত্ব পড়ে গেছে তোমাদের ওপর।