‘অসম্ভব’ জয় ছিনিয়ে আনলো বাংলাদেশ

0
142

11-1স্পোর্টস ডেস্ক: ১ মার্চ, ২০১৪। সেদিন ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মত ওয়ানডেতে খেলতে নেমেই চমকে দিয়েছিল আফগানিস্তান। স্বাগতিকদের হারিয়ে দিয়েছিল ৩২ রানের ব্যবধানে।

এর পরের আড়াই বছর বাংলাদেশ ক্রিকেটে এসেছে অনেক পরিবর্তন। ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলের সাথে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যাওয়া বাংলাদেশ একটু একটু করে বড় দল হয়ে ওঠার লড়াইয়ে ছিল। আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়েও দলটি অবস্থান করছে সাতে।

সেই বাংলাদেশকে রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রায় মাটিতে নামিয়ে এনেছিল আফগানিস্তান; বাংলাদেশের পুরনো ‘হন্তারক’। কিন্তু, তীরে এসে তরী ডুবলো তাদের। ইনিংসের শেষ ওভারে অলআউট হয়ে গেল সফরকারীরা। রংবদলের ম্যাচে সাত রানের নাটকীয় এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

অথচ, শেষ তিন ওভার বাকি থাকতেও মাত্র ২৭ রান প্রয়োজন ছিল আফগানদের। হাতে তখনও পাঁচটি উইকেট। ম্যাচটা তখনও হেসেখেলে জিতে যায় তারা। কিন্তু, তখনই দৃশ্যপটে চলে আসলেন গোটা ম্যাচে ‘ফ্লপ’ তাসকিন আহমেদ।

আগে নিজের ছয় ওভারে তাকে হজম করতে হয়েছিল ৪৯ রান। সদ্য আইসিসির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা তাসকিন কি তাহলে ফুরিয়ে গেলেন? – এমন প্রশ্নও উঠছিল। সেই অবস্থা থেকে একাই চারটা উইকেট নিয়ে নিলেন তাসকিন। হয়ে গেলেন ম্যাচের নায়ক।

তাসকিন ছাড়া দুটি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান ও অধিনায়ক মাশরাফি। বৃথা গেল হাশমতউল্লাহ শাহীদির ৭২, রহমত শাহ’র ৭১ রানের ‘ক্লাসিক’ দুটি ইনিংস। এর বাদে মোহাম্মদ নবীর ৩০, ওপেনার আহমেদ শাহজাদের ৩১ রানের ইনিংসের কথাও মাথায় রাখতে হবে। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব।

টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ওভারেই ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ‘ডাক মেরে’ সাজ ঘরে ফিরেন সৌম্য সরকার। এরপর তামিম ইকবাল প্রথমে ইমরুল কায়েসের সাথে মিলে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৮৩ রান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তিনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে যোগ করেন ৭৯ রান। এই দুটি জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়।

৯৮ বলে নয়টি চারের সৌজন্যে ৮০ রান করে ইনিংসের ৩৬ তম ওভারের প্রথম বলে মিরওয়ারিশ আশরাফের বলে পয়েন্টে দাঁড়ানো অভিষিক্ত নাভিনুল হকের হাতে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরে যান তামিম।

তামিমের ৩৩ তম হাফ সেঞ্চুরি পাওয়ার দিনে মাহমুদউল্লাহ পেয়ে যান তার ক্যারিয়ারের ১৫ তম হাফ সেঞ্চুরি। দুটি ছক্কা আর পাঁচটি চারের সৌজন্যে ৭৪ বলে ৬২ রান করেন তিনি।

এরপর মুশফিকুর রহিম আর সাব্বির রহমান রুম্মান, এই দু’জনের কেউই দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। তবে ছিলেন সাকিব আল হাসান। ৪৮তম ওভারে দৌলত জাদরানের বলে নজীবুল্লাহ জাদরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৪০ বলে তিনি করেন ৪৮ রান।

আফগানাদের হয়ে চারটি উইকেট নেন পেসার দৌলত জাদরান। অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী ও লেগ স্পিনার রশিদ খান দুটি করে উইকেট নেন। বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে ব্যর্থ হয়েছেন দুই ব্যাটসম্যান – মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান রুম্মান। দু’জনই দুই অংকের রান ছুঁতে ব্যর্থ হন।

এর বাদে বাজে ফিল্ডিং আর ক্যাচ মিস তো আছেই। সব মিলিয়ে শেষ বেলায় তাসকিন আহমেদের ক্যামিও স্পেলটা না হলে জয়টা ‘অসম্ভব’ই থেকে যেত বাংলাদেশের। এবার আগামী বুধবারের ম্যাচে সেই ভুলগুলো না করলেই হয়!

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

টস: বাংলাদেশ

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫ অল আউট (তামিম ৬০, রিয়াদ ৬২, সাকিব ৪৮, ইমরুল ৩৭; দৌলত ৪/৭৩, রশিদ ২/৩৭ নবী ২/৪০)

আফগানিস্তান: ৫০ ওভারে ২৫৮/৯ (শাহীদি ৭২, রহমত ৭১, শাহজাদ ৩১, নবী ৩০, তাসকিন ৪/৫৯, সাকিব ২/২৬, মাশরাফি ২/৪২)

ফলাফল: বাংলাাদেশ সাত রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান

সিরিজ: তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে