অষ্টিওপেনিয়া প্রতিরোধ করবেন যেভাবে

0
226

Osteopenia_boneযখন শরীরের হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায় কিন্তু এতোটা কমে যায় না যে তাকে অষ্টিওপোরোসিস বলা যায়, তখন তাকে অষ্টিওপেনিয়া বলে। হাড়ের খনিজের ঘনত্ব বা Bone Mineral Density (BMD) বলতে হাড়ের ঘনত্বকে বুঝায়, এটি হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তিমত্তাকে নির্দেশ করে। অষ্টিওপেনিয়া হলে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং অষ্টিওপোরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে বোঝা যায়।

অষ্টিওপ্যানিয়া হওয়ার কারণ

আমাদের শরীরের হাড়ের গঠন ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হাড় পাতলা হতে থাকে। এটা শুরু হয় মধ্য বয়সে এবং নতুন হাড় গঠনের তুলনায় দ্রুত গতিতে পুরনো বা বিদ্যমান হাড় শরীরে পুনঃশোষিত হতে থাকে। এ কারণেই হাড়ের ভর, গঠন ও খনিজের পরিমাণ কমতে থাকে এবং হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়, এর ফলে অষ্টিওপেনিয়া হয়। সব মানুষের ক্ষেত্রেই ৩০ বছর বয়সের পর হাড়ের ভর কমতে থাকে।

অষ্টিওপেনিয়া হলে তাৎপর্যপূর্ণভাবে হাড়ের ক্ষয় হয় না কিন্তু তাদের হাড়ের ঘনত্ব কমে থাকে।  অন্যকোন রোগের কারণে বা ঔষধের কারণেও হয়ে থাকে অষ্টিওপেনিয়া। পুরুষের তুলনায় নারীদের অষ্টিওপেনিয়াহওয়ার সম্ভাবনা বেশি। নারী এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই যে ফ্যাক্টরগুলো অষ্টিওপেনিয়া হওয়ার জন্য দায়ী তা হচ্ছে-

·         ইটিং ডিজঅর্ডার বা বিপাকের সমস্যা থাকলে শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন এবং খনিজ গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারে না

·         কেমোথেরাপি নিলে বা অ্যাজমাসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা নিরাময়ের জন্য স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবন করলে

·         রেডিয়েশনের কারণে হতে পারে

কাদের বেশি হয় অষ্টিওপেনিয়া?

অষ্টিওপোরোসিসের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে, পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তার অভাবে, ধূমপান করলে, ককেশিয়ান বা এশিয়ান হলে, নিয়মিত সোডাজাতীয় পানীয় পান করলে, ওজন কম হলে এবং অনেক বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল সেবন করলে অষ্টিওপেনিয়া হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

অষ্টিওপেনিয়ার লক্ষণসমুহ

আসলে অষ্টিওপেনিয়ার হওয়ার বিষয়ে নিজে থেকে অবগত হওয়া যায় না। কারণ এর ক্ষেত্রে কোন ব্যথা অনুভুত হয় না বা হাড় পাতলা হয়ে যাওয়ার মত কোন লক্ষণ দেখা যায় না। তবে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার জন্য হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।  

অষ্টিওপেনিয়া নির্ণয়ের উপায়

বোন মিনারেল ডেনসিটি টেস্ট এর মাধ্যমে অষ্টিওপ্যানিয়া নির্ণয় করা যায়। সবচেয়ে সঠিকভাবে  অষ্টিওপ্যানিয়াঅষ্টিওপেনিয়া নির্ণয় করা যায় Duel-energy X-ray absorptiometry (DEXA) স্ক্যান এর মাধ্যমে।   DEXA এক্স-রে এর এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা খুবই সামান্য প্রায় ২% এর মত হাড়ের ক্ষয় ও নির্ণয় করা যায়।

অষ্টিওপেনিয়ার চিকিৎসা

কারো কারো ক্ষেত্রে ঔষধের প্রয়োজন হলেও জীবনযাত্রার সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে হাড়ের ক্ষয় হওয়াকে কমানো যায়। হাড়ের গঠনকে উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে খাদ্য। হাড়ের ভরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। তাই ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- দুধ, দুগ্ধ জাতীয় পণ্য, শাকসবজি ইত্যাদি খান। আপনার চিকিৎসক ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকবেন । এর পাশাপাশি ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট ও দিতে  পারেন।

অষ্টিওপেনিয়া প্রতিরোধের জন্য যা করবেন

·         পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করুন। এর জন্য উচ্চমানের অরগানিক ডেইরী প্রোডাক্ট যেমন- দই ও দুধ গ্রহণ করুন। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছ, গাড় সবুজ শাকসবজি, ব্রোকলি, সয়া পণ্য টফু এবং কমলার জুস গ্রহণ করুন।

·         পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন।

·         সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ কমান।

·         প্রচুর ফল ও সবজি খান। পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন হাড়ের ভর বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। প্রাণীজ আমিষ গ্রহণের পরিমাণ কমান।

·         ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করুন।

·         সপ্তাহে কয়েক দিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

·         প্রতিদিন ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান। পালংশাক, কাঠবাদাম, ব্রোকলি, মিষ্টিকুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ এবং মসুর ডাল ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস।

·         প্রতিদিন ভিটামিন কে সমৃদ্ধ খাবার খান।

সূত্র: ডা.ওয়েইল  

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here