অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার সক্রিয়: অর্থমন্ত্রী

0
42

ঢাকা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশ থেকে অর্থপাচারের মাত্রা যাই হোক না কেন, পাচারের সম্ভাব্য উৎসগুলো বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতি কিংবা অন্য কোনো অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার সক্রিয় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে বর্তমান সময়ে প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যে দাবি করা হচ্ছে সেটি তথ্যভিত্তিক নয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যে বিদেশে অর্থপাচারের শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোয় অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট বিদেশে তাদের কাউন্টার পার্টদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করছে। সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও কানাডায় ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থপাচার বিষয়ক বেশ কিছু মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ও দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে।

সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ফারমার্স ব্যাংকে বর্তমানে তারল্য সংকট বিদ্যমান থাকায় গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পর থেকে রেগুলেটরি ও প্রুডেনশিয়াল নিয়মকানুন পরিপালনে অনিহা এবং পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও সার্বিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ক্রমাবনতি বিদ্যমান থাকে। ইতিমধ্যে ব্যাংকটির দুর্বল আর্থিক অবস্থা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়লে আমানতকারীরা ব্যাংক হতে আমানত উঠিয়ে নিতে থাকে। এতে ব্যাংকে তারল্য সংকটের সৃষ্টি হয়। ফারমার্স ব্যাংকের তারল্য সংকটজনিত সমস্যা মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ করে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিযোগের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। ওই ব্যাংকে বিভিন্ন ফান্ড ও প্রতিষ্ঠান থেকে পর্যায়ক্রমিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫০০ কোটি টাকার সাব অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে তৎপর হওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here