অমৃত-অক্ষরের জনক ‘মাইকেল মধুসূদন দত্ত’

0
398

13439204_1718273035090194_5994511237907922497_nবাংলা ভাষার অন্যতম পুরোধা ‘সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক’ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার। ১৮৭৩ সালের আজকের এই দিনে (২৯ জুন) পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন এই মহাকবি। তার জন্ম হয়েছিল ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বর্তমান বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম এই পুরোধা জীবনের শুরুতে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান ধর্মগ্রহণ করে পাশ্চাত্য সাহিত্যের দুর্নিবার আকর্ষণবশত ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তিকালে জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মধুসূদন আকৃষ্ট হন নিজের মাতৃভাষার প্রতি। এই সময়েই তিনি বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্যরচনা করতে শুরু করেন। প্রবর্তন করেন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দ। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য দিয়েই উঠে আসেন অনন্য উচ্চতায়।

মধুসূদন দত্তের শিক্ষাজীবনের শুরু কলকাতায়। স্থানীয় একটি স্কুলে কিছুদিন পড়ার পর তিনি তদনীন্তন হিন্দু কলেজে (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) পড়াশুনা করেন। ১৮৪৩ সালে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে ফ্রান্সে চলে যান। পরবর্তীতে ১৮৫৬ সালে মায়ের ভাষার প্রতি ব্যপক টান অনুভব মহাকবিকে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য করে।

মধুসূদন দত্তের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে, ” দ্যা ক্যাপটিভ লেডি, শর্মিষ্ঠা, কৃষ্ণকুমারী (নাটক),পদ্মাবতী (নাটক), বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ, একেই কি বলে সভ্যতা, তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, চতুর্দাশপদী কবিতাবলি, হেকটর বধ”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here