অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ বন্ধসহ ১৮ দফা ঢাকা ঘোষণা গৃহীত

0
108

215d91e57e0b3b6330852cda5f11c52f-58e3b23768f6aঢাকা: স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনও দেশের হস্তক্ষেপ বন্ধসহ ১৮ দফা খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে আইপিইউ-র শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিতে। ঢাকায় চলমান ১৩৬তম ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের শেষ দিনে বুধবার ‘ঢাকা ঘোষণা’ নামে চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে।

মঙ্গলবার আইপিইউ-র শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ৪৪-১০ ভোটে এই খসড়া প্রস্তাবনা গৃহীত হয়।এতে বেলজিয়াম ভোটদানে বিরত থাকে। প্রস্তাবনায় বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ৪৪টি দেশ পক্ষে ভোট দেয়। অপরদিকে ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলোর বেশিরভাগ এর বিপক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলো হলো- জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড।

কমিটিতে প্রস্তাবটি গ্রহণ করার পর নির্বাহী কমিটিতে যাবে। ১৭ সদস্যের ওই কমিটির সভাপতি আইপিইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী।এছাড়া ৬ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ১০ জন সদস্য রয়েছেন ওই কমিটিতে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে প্রস্তাবটি। বুধবার প্রস্তাবটি জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে চূড়ান্ত আকারে গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার গৃহীত ১৮ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল- একটি দেশের ওপর অন্য দেশের নাক গলানোর বিষয়টি। বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই দফার ওপর বক্তব্য দেয়। আলোচনাকালে প্রস্তাবের পক্ষের দেশগুলো অঙ্গিকার করেছে, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। বিশেষ কোনও কারণে যদি প্রয়োজনও হয়, তাহলে জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করার ওপর মত দেন তারা।

এর আগে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধে আনিত এই খসড়া প্রস্তাবটির ওপর গত দুই দিন বিভিন্ন দেশের সংসদ সদস্যরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসময় এক দেশ অন্য দেশকে দোষারোপ করতে থাকেন।

ভোটদানে বিরত থাকা বেজলিয়ামের প্রতিনিধি বলেন, ‘খসড়ায় মানবাধিকারসহ অনেক বিষয়ে ব্যালান্স করা হয়েছে। আমার মনে হয় না এটা এমন একটা প্রস্তবনা হয়েছে, যা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে।’

ফিনল্যান্ড তার বক্তব্যে প্রস্তাবনার ৫ ও ৬ দফা সংশোধনের প্রস্তাব করে।

বাংলাদেশের পক্ষে মঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘আমরা কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোঁচাই না। এই সম্মেলনে আমরা বলেতে চাই সব শেষে গণতন্ত্রকে সমর্থন দিতে হবে।’

জার্মানির বক্তব্য,বিশ্বে হুমকির মুখে থাকা গণতন্ত্র এই রেজুলেশনের মাধ্যমে আরও ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে।

প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়ে চীন বলেছে, বিশ্বের অনেক দেশেরই অন্য দেশের দ্বারা হস্তক্ষেপের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা মনে করি, এই প্রস্তাব গণতন্ত্রের একটি ফসল।

খসড়ার পক্ষে বেশিরভাগ দেশের ভোট প্রদানের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই সব দেশেরই অধিকার রয়েছে। কারও অধিকার নেই আরেক দেশের জাতীয় পর্যায় হস্তক্ষেপ করার। কোনও দেশ এ ধরনের হস্তক্ষেপ মেনে নেবে না। আমরা মনে করি, এ ধরনের কোনও পরিস্থিতি হলে জাতিসংঘের মাধ্যমে সেটা হতে হবে।

রাশিয়া বলেছে,রাজনীতিতে নতুন করে কোনও বাধা তৈরিকারী দেশকে তারা চায় না। বিভক্ত রাজনীতির পরিবর্তে সহযোগিতামূলক ভাবে তারা কাজ করতে চায়।

দক্ষিণ আফ্রিকা বলেছে, তাদের কিছু বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও মুক্তচিন্তা নিয়ে তারা এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ ইস্যু নিয়ে ফিনল্যান্ড বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here