অভিশংসনের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প!

0
22

trump_47505_1495153241ট্রাম্পের রুশ সংযোগ তদন্তে বিশেষ কমিটি * তদন্ত কমিটি গঠন উইচ হান্ট : ট্রাম্প

নির্বাচনে রুশ সংযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি কেলেঙ্কারির জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিশংসিত হতে পারেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

অপসারিত সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের রুশ সংযোগ নিয়ে এফবিআই প্রধান জেমস কমির তদন্তে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ এবং রাশিয়ার কাছে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর এ গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা বলেন, এসব অভিযোগ সত্য হলে ট্রাম্পকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হতে পারে। রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, পরিস্থিতি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির দিকে যাচ্ছে।

তবে হোয়াইট হাউস জানায়, তথ্য ফাঁসের ঘটনা এবং ফ্লিনকে নিয়ে তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সত্য নয়। কিন্তু বহু রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন। এদিকে ট্রাম্পের রুশ সংযোগ তদন্তে নতুন বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেবেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক উভয় দলের আস্থাভাজন রবার্ট মুলার। খবর বিবিসি, সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইসরাইলের কাছ থেকে পাওয়া আইএস সম্পর্কিত তথ্য মস্কোকে দিয়েছেন বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা।

এ ঘটনায়ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে ট্রাম্প দম্ভিকতার সঙ্গে টুইট বার্তায় জানান, একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তথ্য শেয়ার করার অধিকার আমার রয়েছে। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বড় কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা যায়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য হলে তিনি সংবিধান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন এবং শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সিনেটে ১৯৯৯ সালে বিল ক্লিনটনকে অভিশংসনের প্রচেষ্টাকারী রিপাবলিকান দলের ১১ এবং ডেমোক্রেটিক দলের ৭ জন সদস্য রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বিশ্লেষক ও হার্ভাড ল’ স্কুলের সাংবিধানিক আইন বিষয়ের অধ্যাপক লরেন্স এইচ ট্রাইব বলেন, ‘যে কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে করতে ‘সর্বোচ্চ অপরাধ ও অপকর্মের’ জন্য অভিযুক্ত হন, তখন আর তাদের ক্ষমতার স্থলে থাকার অধিকার থাকে না।’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান, রিচার্ড নিক্সন এবং বিল ক্লিনটনের তৎকালীন উপদেষ্টা ডেভিড গারগেন বলেন, ফ্লিনের রুশ সংযোগের বিষয়ে তদন্ত বন্ধ করার অনুরোধ এবং রাশিয়ার কাছে ট্রাম্পের তথ্য ফাঁসের ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে তিনি অভিশংসনের শিকার হওয়ার কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিল ক্লিনটনের অভিশংসনের প্রক্রিয়া দেখার পর মনে করেছিলাম, আমি আর কখনও এমন পরিস্থিতি দেখব না।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, আমরা আরেকটি অভিশংসনের দিকে যাচ্ছি। গারগেন, রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির ঘটনায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উপদেষ্টা ডেভিড অ্যাক্সেলরড বলেন, আমি এখনও অভিশংসন নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। তবে যদি সাবেক এফবিআই প্রধান জেমস কমির তথ্য সঠিক হয়, তাহলে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

প্রতিনিধি পরিষদের পর্যবেক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান জ্যাসন শ্যাফেজ জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং কমির আলাপ-আলোচনার সব তথ্য কমিটির কাছে উপস্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিশংসিত হননি। যদিও বিল ক্লিনটন, অ্যান্ডু জনসনকে অভিশংসনের চেষ্টা করা হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ মেলেনি।

এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আলোচিত ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জন্য রিচার্ড নিক্সন নিজেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল না। বরং ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াটার গেট ভবনস্থ বিরোধী ডেমোক্রেটিক দলের সদর দফতরে আড়িপাতার যন্ত্র বসানোর অভিযোগ ওঠে নিক্সনের বিরুদ্ধে।

এদিকে নতুন এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের অভিশংসন চান। তবে ৪১ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের অভিশংসন বিরোধী। মঙ্গলবার প্রকাশিত ডেমোক্রেটিক ফার্ম ‘পাবলিক পলিসি পোলিং’এর এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগের দিন প্রকাশিত গ্যালাপের জরিপে দেখা যায়, সাবেক চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট থেকে ট্রাম্পের যোগ্যতা ও দক্ষতা তুলনামূলক কম। ওই জরিপে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে অনুমোদন করে মাত্র ৩৮ শতাংশ মার্কিনি। এছাড়া ৫৭ ভাগ মার্কিনি ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেয়ে অসন্তুষ্ট।

রুশ সংযোগ তদন্তের নেতৃত্বে মুলার : ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার নির্বাচনী শিবিরের রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলার।

গত সপ্তাহে কমিকে বরখাস্তের পর এ পদে মুলারকে নিয়োগ দেয়া হল। মুলার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তে তার নিয়োগপত্রে সমর্থন দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান দু’দলের রাজনীতিকরা। বিশেষ তদন্ত পরামর্শক নিয়োগের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, বিল ক্লিনটনের নির্বাচনী প্রচারণা ও ওবামা প্রশাসনে যেসব অবৈধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেসব তদন্ত করতে কখনও কোনো তদন্তকারী প্রধান নিয়োগ করা হয়নি।’ অপর এক টুইটে তিনি বলেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক হয়রানির ঘটনা (উইচ হান্ট)।’ সিনেটের ডেমোক্রেটিক দলীয় নেতা চাক শুমার বলেন, ‘এ কাজের জন্য যথার্থ ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

মুলারের হাত ধরে তদন্ত কাজ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’ গত ৯ মে এফবিআইয়ের প্রধানের পদ থেকে কমিকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। গত নির্বাচনে ট্রাম্প ও তার প্রচার শিবিরের রুশ সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত দলের প্রধান ছিলেন কমি। তার বরখাস্তের পর এ পদে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়ার দাবি উঠে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY