অবসরে যেতে পারলে খুশি হবেন শেখ হাসিনা

0
113

10নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচে পুরাতন দল আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি। এই জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে দলীয় সভানেত্রীর দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। তার প্রতিফলন দেখা গেছে ২০১৬ সালের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা দলের নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন। আর এর চেয়ে আলোড়নের বিষয় অবসরে যাওয়ার সুযোগ পেলে খুশি হবেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তার এমন বক্তব্য এবং দলীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতাকে নির্বাচনের পর জল্পনা-কল্পনা বেড়েই গেছে। প্রশ্ন ওঠেছিলো- আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভাপতি বা সভানেত্রী পদেরও কী পরিবর্তন হবে।

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা, সংবাদের শিরোনাম বেশি হয়েছে দলটির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। সবার নজর ছিলো তৃতীয়বারের মতো এই দায়িত্ব কী সৈয়দ আশরাফ পেতে যাচ্ছেন, না-কি নতুন কেউ আসছে। চলতি বছরের ২২ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ‌্যানে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা এবারের সম্মেলনকে ভবিষ‌্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের জন‌্য গুরুত্ব দিয়ে আসছিলেন। এই সম্মেলনের বড় অর্জন দলের ভবিষ‌্যৎ কর্মপন্থা ও নতুন নেতৃত্ব সফলভাবে গঠন করা। ২০৪১ সালের মধ‌্যে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে ‘সহায়ক নেতৃত্ব’ বের করে আনার পরিকল্পনা সফল হয় এই সম্মেলনের মধ্য নিয়ে। সম্মেলনের স্লোগান- ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার’।

২০তম সম্মেলন নিয়ে শুধু দলীয় নেতা-কর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছিলো টানটান। কে হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক? আর রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতাসীন এই দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদে কোন রদবদল হচ্ছে কি-না এটা জানার জন্য উদগ্রীব থেকেছে সবাই। সম্মেলনে যোগ দিতে আসা লালমনিরহাটের আরমান আলী নামে এক কাউন্সিলর বলছিলেন, “প্রথম সম্মেলনে এসেছি, খুব ভালো লাগছে। আওয়ামী লীগ করাটা সার্থক মনে হচ্ছে।” বরিশাল থেকে আসা শ্যামল ঘোষ বলেন, “আওয়ামী লীগের সম্মেলন এত সুন্দর পরিবেশে হয়, এটা আমার জানা ছিল না।”

দেশের অন‌্যতম প্রাচীন ও বড় দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে তারা সম্মেলনে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা বাস্তবায়নের ভার কাদের উপর দেয়, সেদিকে দৃষ্টি এখন সারা দেশবাসীর। এবার কাউন্সিলের কিছু দিন আগে থেকে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে আসছিলেন ৭০ বছরে পা দেওয়া শেখ হাসিনা। কাউন্সিলেও কয়েকবারই নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার কথা বলেছিলেন ৩৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব দিয়ে আসা বঙ্গবন্ধুকন‌্যা।

সেই সুযোগ খোদ আওয়ামী লীগ-ই দিতে নারাজ। এবারের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে শেখ হাসিনা নিজেই আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সম্মেলনের নির্বাচনী অধিবেশনের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকন‌্যার নামই সভাপতি পদের জন‌্য প্রস্তাব করেন প্রবীণ নেত্রী বিদায়ী সভাপতিমণ্ডলীর সদস‌্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তা সমর্থন করেন সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস‌্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

তবে যতবারই তিনি একথা বলেছেন, ততবারই কাউন্সিলর ও নেতারা ‘না না’ বলে সরব হয়েছিলেন।

২০তম কাউন্সিলে ফের সভাপতি নির্বাচিত নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা আবারও পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করার তাগিদ দেন নেতাদের। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও সংগঠনের দায়িত্ব পালন যে কঠিন, তাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

“যে গুরু দায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন, তা বহন করব। ৩৫ বছর একটা দলের সভাপতি, তবে একটা সময় আমাকে বিদায় নিতে হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here