অন্তিম যুদ্ধে হিলারি–‌ট্রাম্প

0
342

168109_155আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আর এক দিন। মঙ্গলবার ভোট। এক মুহূর্তও বসে থাকার ফুরসত নেই এখন হিলারি ক্লিন্টন বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শেষ সময়ে ভোটারদের সমর্থন পেতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। নজর তাদের বিশেষ করে সেই রাজ্যগুলিতে, লড়াই যেখানে হাড্ডাহাড্ডি। ‘‌ব্যাটেলগ্রাউন্ড’ বলে চিহ্নিত হচ্ছে এই রাজ্যগুলো। যেমন নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভ্যানিয়া, মিশিগান, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, আয়োয়া ইত্যাদি। এবং শেষ পর্যন্ত ইলেকটোরাল কলেজের অঙ্ক অনেকটাই নির্ভর করবে এখানকার ফলাফলে।

জনমত সমীক্ষাগুলিতে এখনো তিনিই এগিয়ে, কিন্তু ব্যবধান কমেছে। রোববার ম্যাকার্থি–‌ম্যারিস্টের শেষ সমীক্ষা তো বলছে, ব্যবধান মাত্র ১ শতাংশ। ৪৪ শতাংশের সমর্থন হিলারির দিকে, ৪৩ শতাংশ ট্রাম্পের দিকে। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্ট–‌এবিসি‌র সমীক্ষা অনুযায়ী হিলারির প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৮ ভাগ মানুষের। ট্রাম্পের প্রতি ৪৩ শতাংশের। ব্যবধান ৫ শতাংশের। দু’‌দিন আগে এই সমীক্ষায় ব্যবধানটা ছিল ৩ শতাংশের। রিয়েলক্লিয়ারপলিটিক্স–‌এর হিসেবে ১.‌৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে এখন হিলারি। সিএনএন যে নতুন ইলেকটোরাল মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে ৫৩৮টি আসনের মধ্যে এই মুহূর্তে হিলারির ঝুলিতে রয়েছে ২৬৮টি ভোট, ট্রাম্প ২০৪। গত ১৫ মাসে এই প্রথম সিএনএনের ইলেকটোরাল মানচিত্রে হিলারির খাতে ২৭০টির কম ইলেকটোরাল ভোট দেখানো হলো। অন্যদিকে ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর হিসেবে হিলারি ২৭০-এর বেশি ইলেকটোরাল ভোট পাচ্ছেন। প্রায় নিশ্চিত দেখাচ্ছিল যে জয়, তা যাতে হাতছাড়া না হয়ে যায় তার জন্য দরজায় দরজায় টোকা দিচ্ছে হিলারির প্রচারবাহিনী। ট্রাম্পও শেষ মুহূর্তে কিছুটা আশার আলো দেখতে পেয়ে ঝাঁপিয়েছেন প্রবলতর উৎসাহে।

চষে বেড়াচ্ছেন একের পর এক রাজ্য। প্রচার সূচিতে জুড়েছেন বাড়তি কিছু জায়গা, এমনকি হানা দিচ্ছেন ডেমোক্র‌্যাটদের ঘাঁটি বলে পরিচিত মিনোসেটাতেও। কাল মধ্যরাতে হিলারি শেষ সভাটি করবেন নর্থ ক্যারোলাইনার রাজধানী শহর র‌্যালি–‌তে। তার আগে ফিলাডেলফিয়ায় আছে বড়সড়ো আয়োজন। স্বামী বিলকে নিয়ে এখানে সভা করবেন হিলারি, এবং যোগ দেবেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও, সস্ত্রীক। ২০ কোটি মানুষের ভোটে নির্বাচিত হবেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আগাম ভোটে অংশ নিয়েছেন ৪ কোটি ভোটার। হিলারি আশা করেছিলেন, ভোটের ময়দানে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত তার শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে রাখবে। আগাম ভোটে অন্তত ততটা সেটা ঘটেনি বলেই মনে করছেন সমীক্ষকরা। ভাবা হয়েছিল, নর্থ ক্যারোলাইনায় আফ্রিকান-আমেরিকানদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাবেন তিনি। এই রাজ্যটি হিলারির ‘রক্ষাকবচ’ বলেই চিহ্নিত হয়েছিল। ২০০৮ ও ২০১২ সালে এখানকার কৃষ্ণাঙ্গরা ওবামাকে সহজ বিজয় এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু হিলারির বেলায় মনে করা হচ্ছে কৃষ্ণাঙ্গদের সমর্থন ১৬ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে, শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের আগাম ভোটে অংশগ্রহণ বেড়েছে ১৫ শতাংশ, যার অধিকাংশই গেছে ট্রাম্পের বাক্সে। তবে হিলারির জন্য আশার কথা, হিস্পানিক ভোটাররা এ বছর আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে অধিক সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। অ্যারিজোনা ও নেভাডায় এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে হিস্পানিকদের আগাম ভোটের পরিমাণ আগের তুলনায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেড়েছে। এই ভোট হিলারির পক্ষেই যাবে।

হিলারির পক্ষে আফ্রিকান-আমেরিকান ও তরুণদের উৎসাহ যে যথেষ্ট নয়, সে কথার প্রমাণ মেলে শুক্রবার ক্লিভল্যান্ডে। শিল্পী বিয়নস ও তার স্বামী জেসিজে–‌কে সঙ্গে নিয়ে হিলারি প্রচার অনুষ্ঠান করেন। কনসার্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই সভাস্থল ত্যাগ করেন। ২০০৮ সালে এই ক্লিভল্যান্ডেই ওবামার প্রচার–অনুষ্ঠানে ৮০ হাজার দর্শকের সমাগম হয়েছিল। তার সঙ্গে ছিলেন পপ তারকা ব্রুস স্প্রিংস্টিন, কিন্তু প্রধান তারকা ছিলেন ওবামাই। তিনি ভাষণ শেষ না করা পর্যন্ত একজন শ্রোতাও নড়েননি।‌‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here