অনেক পাওয়ার জয়ে বাংলাদেশ ছয়ে [ভিডিও]

0
104

1111_47968_1495670365নিউজিল্যান্ড ২৭০/৮ : বাংলাদেশ ২৭১/৫ * বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

মাহমুদউল্লাহর ব্যাট থেকে জয়সূচক বাউন্ডারি আসতেই নন স্ট্রাইকিং এন্ডে তার ভায়রা ভাই মুশফিক মেতে ওঠেন বুনো উল্লাসে। ডাবলিনের ক্লনটার্ফে তখন শুধু দুটোই রং- লাল-সবুজ। গোটা গ্যালারিতে আনন্দ-নৃত্য। অনেক পাওয়ার এক জয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আনন্দে উদ্বেল। দূরদেশে বসে দেশমাতৃকার মধুর জয় দেখতে পারার গৌরবের যে কোনো তুলনা হয় না। এক টাইগার ভক্তের ব্যানার জানান দিচ্ছিল সেই অতুলনীয় গরিমার- আমরা তোমাদের জন্য গর্বিত।

বুধবার ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য গৌরবের, সৌরভের। সিরিজ হাতছাড়া হওয়ার দুঃখ এরচেয়ে ভালোভাবে আর দূর হতো না। এক ঢিলে নাকি দুই পাখি মারা হয়। বাংলাদেশ তো এক ঢিলে কয়েকটি পাখি মারল। এক, শ্রীলংকাকে টপকে আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে এই প্রথম ছয়ে উঠে গেল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে যা বাংলাদেশের সেরা র‌্যাংকিং। বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার রেটিং পয়েন্ট এখন সমান ৯৩। কিন্তু ভগ্নাংশের হিসাবে এগিয়ে বাংলাদেশ। দুই, দেশের বাইরে এই প্রথম কিউইদের কুপোকাত করলেন মাশরাফিরা। তিন, এই জয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা প্রায় নিশ্চিত করল।


পাঁচ উইকেটের মধুর জয়ে শেষ হল বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড সফর। এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফি। ১০ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশ টপকে যায় নিউজিল্যান্ডের ২৭০। ২৭১ তাড়া করতে নামা মাশরাফিরা শুরুতে সৌম্যকে হারালেও দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের ১৩৬ রানের জুটি জয়ের মহাসড়কে তুলে দেয় বাংলাদেশকে। তামিম ও সাব্বির দু’জনের ব্যাট থেকেই সমান ৬৫ রান করে আসে। এরপর মোসাদ্দেক (১০) ও সাকিব (১৯) অল্প রানে ফিরে গেলে ঈষৎ শংকা জেগেছিল। সেই শংকা দূর হয়ে যায় দুই ‘ম’ মুশফিকুর ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে। ষষ্ঠ উইকেটে এ দু’জনের অবিছিন্ন ৭২ রানের জুটি বাংলাদেশকে উপহার দেয় মধুর জয়। মুশফিক ৪৫ বলে তিনটি চার ও একটি ছয়ে ৪৫ এবং মাহমুদউল্লাহ ৩৬ বলে ছয়টি চার ও একটি ছয়ে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন। সেই সুবাদে ওডিআইতে তিন হাজার রানের মাইলফলক টপকালেন মাহমুদউল্লাহ। দুই ভায়রা ভাইয়ের মধ্যে ছোট মুশফিকুর ভাগ্যবান। ম্যাচসেরা যে তিনিই। সিরিজসেরা নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম লাথাম।

শেষ ম্যাচে হারলেও ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দল হিসেবে সিরিজ শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশ দুই পয়েন্ট কম নিয়ে হয়েছে দ্বিতীয়। স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ বৃষ্টি ভেসে যাওয়ায় পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচ থেকে পাওয়া যায় দুই পয়েন্ট। এরপর আয়ারল্যান্ডকে ফিরতি ম্যাচে আট উইকেটে হারায় বাংলাদেশ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাশরাফিরা হার মানেন চার উইকেটে। সেই পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নেয়ার পাশাপাশি দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমবার হারানোর তৃপ্তি নিয়ে টাইগারদের পরবর্তী গন্তব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।

সিরিজের প্রেক্ষাপটে ম্যাচটা নিয়মরক্ষার হলেও অনেক কিছু পাওয়ার ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নিদারুণ ফিল্ডিং ব্যর্থতায় প্রথমভাগেই মুঠো থেকে বেরিয়ে যেতে বসেছিল ম্যাচ। সেটা হতে দেননি বোলাররা। সাড়ে তিনশ’র পথে এগিয়ে চলা নিউজিল্যান্ডকে শেষ পর্যন্ত তিনশ’র অনেক আগেই থামিয়ে দেয় বাংলাদেশ। দারুণ শুরুর পরও আট উইকেটে ২৭০ রানের বেশি তুলতে পারেনি কিউইরা। তিন উইকেটে ২০৮ রানের দারুণ ভিতের ওপর দাঁড়িয়েও শেষদিকে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পথ হারায় নিউজিল্যান্ড। তিন উইকেটে ২০৮ থেকে ২২৬ রানেই নেই সাত উইকেট। ১৮ রানের মধ্যে চার উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের রং বদলে দেন মাশরাফি মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান। সেই ধাক্কায় শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৫৫ রান নিতে পেরেছে নিউজিল্যান্ড। তবে সংগ্রহটা আরও ছোট হতে পারত। রীতিমতো ক্যাচ মিসের মহড়াই দিয়েছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। শূন্য ও ৫০ রানে দু’বার ‘জীবন’ পেয়েছেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম। ৫৬ রানে ‘জীবন’ পেয়েছেন নিল ব্রুম। শেষ ওভারে রস টেলরের ক্যাচ ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া হাতছাড়া হয়েছে রানআউটের কয়েকটি সুযোগও। ফিল্ডিংয়ের গ্লানি অবশ্য পুষিয়ে দিয়েছেন বোলাররা। সমান দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, সাকিব ও নাসির হোসেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন।

সকালে মেঘলা কন্ডিশনে টস জিতে অনুমিতভাবেই ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। একাদশে এদিন একটি পরিবর্তন। আগের ম্যাচে অভিষিক্ত বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের জায়গায় নাসির। অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামায় শুরুতে কিছুটা জড়তা ছিল নাসিরের ফিল্ডিংয়ে। সেটাই কাল হল। অধিনায়ক মাশরাফির করা প্রথম ওভারেই স্কয়ার লেগে সহজ ক্যাচ ফেলে শূন্যরানে লাথামকে জীবন দেন নাসির। সেই লাথামের ব্যাট থেকেই আসে দলীয় সর্বোচ্চ ৮৪ রান। ৩১তম ওভারে লাথামকে বোল্ড করে নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেন নাসির।

এর আগে দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন মোস্তাফিজ। চতুর্থ ওভারে লুক রনকিকে ফিরিয়ে ২৩ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন এই বাঁ-হাতি পেসার। এরপর বাংলাদেশের ফিল্ডিং ব্যর্থতায় দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন লাথাম ও ব্রুম। ৫৬ রানে সৌম্যর হাতে ‘জীবন’ পাওয়া ব্রুমকে ৬৩ রানে থামান নাসির। তার পরের শিকার লাথাম। তবে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরাতে বড় অবদান মাশরাফি ও সাকিবের। ৩৯তম ওভারে ২০৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। কোরি অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে ধসটা নামান সাকিব। পরে ফেরান স্যান্টনারকেও। এর মাঝে নিজের টানা দুই ওভারে জিমি নিশাম ও কলিন মুনরোকে ফিরিয়ে কিউইদের ডানা ছেঁটে দেন মাশরাফি। রস টেলর ৬০ রানে অপরাজিত থাকার পরও শেষদিকে তাই ঝড় তুলতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here