অঘটনের আঁচ আগেই করতে পেরেছিলেন খাশোগি

0
6

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢোকার পর নিখোঁজ দেশটির সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নিয়ে রহস্য দিনে দিনে আরও ঘনীভূত হচ্ছে। কনস্যুলেটে অঘটন ঘটতে পারে বলে তিনি আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিলেন।

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটনের প্রদায়ক খাশোগিকে সৌদি সরকার খুন করেছে বলে অভিযোগ করেছে তুর্কি সরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।

যদিও নিখোঁজ ওই সাংবাদিকের এক বন্ধু এবার দাবি করেছেন, সৌদি দূতাবাসে ঢোকার পর পরই কিছুক্ষণের জন্য বেরিয়েছিলেন খাশোগি। আর সেই সময় তার বাগদত্তার কাছে নিজের মোবাইল ফোনটি রেখে যান ওই সাংবাদিক।

বাগদত্তাকে খাশোগি বলে যান, তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না ফিরলে প্রেমিকা যেন অবিলম্বে দূতাবাসকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে কি কোনো অঘটনের আঁচ আগে থেকেই পেয়েছিলেন খাশোগি? তার বাগদত্তা হাটিস সেনগিজ অবশ্য সেদিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তুরস্কের নাগরিক হাটিসকে বিয়ে উপলক্ষেই ইস্তানবুল গিয়েছিলেন খাশোগি। তার যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তা প্রমাণের জন্য তাকে কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হতো ইস্তানবুলের সৌদি দূতাবাসে। সে জন্যই গত সপ্তাহে তুরস্কে যান তিনি।

খাশোগির ওই বাগদত্তা তুরস্কের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিয়ে নিয়ে খুবই উত্তেজিত ছিলেন খাশোগি। সৌদি সরকার যে আদৌ তার কোনো ক্ষতি করতে পারে, তুরস্কে আসার আগে তা সম্ভবত আঁচ করতে পারেননি তিনি। কিন্তু সৌদি দূতাবাস ছাড়ার আগে তিনি প্রেমিকাকে কেন নিজের ফোনটি দিয়ে গিয়েছিলেন, সেই রহস্যের সমাধান এখনও হয়নি।

তুরস্ক আসার আগে লন্ডনে এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়েছিলেন খাশোগি। ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সেখানে সৌদি সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এ সাংবাদিক।

সেখানে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সরকার তার কোনো ক্ষতি করল কিনা, খাশোগির বন্ধু সেই প্রশ্ন তুলেছেন। এমনিতে সৌদি রাজপরিবারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত খাশোগির জীবনের ঝুঁকি আগে থেকেই ছিল। সে জন্য স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়ে আমেরিকায় থাকা শুরু করেন তিনি।

সাংবাদিকের এই অন্তর্ধান পর্বে আমেরিকার সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। সৌদি সরকার অবশ্য প্রথম থেকেই গোটা বিষয় থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করে চলেছে।

তারা জানিয়েছে, খাশোগি কোথায়, তারা কিছুই জানেন না। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে মুখ না খুললেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ঘনিষ্ঠ মহলে যথেষ্ট বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রের খবর।

সৌদি সরকার খাশোগিকে খুঁজতে ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এখন জানতে চায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!